আল কুরআনের বক্তব্য ; তােমাদের পিতা ইবরাহীমের মিল্লাতের উপর কায়েম হয়ে যাও। তিনি আগেও তােমাদের নাম মুসলিম রেখেছিলেন। এই কুরআনেও তােমাদের নাম এটাই।’ (সূরা-হা : আয়াত-৭৮)

ইবরাহীম ইহুদী ছিলেন না, খ্রিস্টানও ছিলেন না। তিনি একজন একনিষ্ঠ মুসলিম ছিলেন।’

(সুরা-আলে ইমরান : আয়াত-৬৭)

“তােমরা কি বলতে চাও-ইবরাহীম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার সন্তানগণ ইহুদী বা খ্রীস্টান ছিলেন? আপনি বলুন—তােমরা বেশী জান না আল্লাহ্ বেশী জানেন?” (সূরা-বাকারা : আয়াত-১৪০)।

“তিনি (ইবরাহীম) তাঁর সন্তানদের ঐ তরীকায় চলার জন্য উপদেশ দিয়েছিলেন এবং ইয়াকুব ও তার সন্তানদের ঐ উপদেশ দিয়ে গেছেন। তিনি বলেছিলেন“হে আমার সন্তানগণ! আল্লাহ তােমাদের জন্য এ দ্বীন পছন্দ করেছেন। তাই তােমরা মৃত্যু পর্যন্ত মুসলিম হয়ে থাকবে।’ (সূরা-বাকরা : আয়াত-৩২)

আল কুরআনের উপরােক্ত বক্তব্যসমূহ থেকে পরিষ্কার-ইবরাহীম (আ.) মুসলিম জাতির পিতা। তিনি মুসলিম ছিলেন। তাঁর আগেও যারা আল্লাহর অনুগত ছিল, তাদের নাম মুসলিম ছিল। তার পরে এখনও যারা আল্লাহর অনুগত তাদের নাম মুসলিম। প্রথম মানুষও প্রথম নবী আদম (আ.) আল্লাহর অনুগত ছিলেন- তিনিও। মুসলিম ছিলেন।

ঈসা (আ.) ইবরাহীম (আ.) এর প্রথম বিবি সারার’ বংশধারার একজন নবী। ইবরাহীম (আ.) যেমনি মুসলিম ছিলেন, ঈসা (আ.) ও তেমনি মুসলিম ছিলেন। অথচ ঈসা (আ.) এর অনুসারী বলে দাবিদারগণ তার নাম রেখেছে—Jesus criste, আর তার প্রচারিত জীবনবিধান ধর্মের নাম রেখেছে খ্রিস্টান ধর্ম । ঈসা (আ.) ঘুণাক্ষরে কখনও তার প্রচারিত ধর্মকে “খ্রিস্টান ধর্ম’ বলেননি।

এভাবে মুসা (আ.) ইবরাহীম (আ.) এর বিবি সারার’ বংশধারার বনিইসরাইল বংশের আরাে একজন নবী। ইবরাহীম (আ.) এর মত তিনিও মুসলিম ছিলেন। তার বংশধরদের মধ্যে এক গোত্রের নাম ছিল ইয়াহুদা’। এ গোত্র তাদের বংশের বাকি এগারটি গােত্রের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে। এরাই মুসা (আ.) এর ইনতিকালের পর তার প্রচারিত ধর্মকে ইহুদী ধর্ম হিসেবে চালিয়ে দেয়। অথচ মুসা (আ.) তাঁর প্রচারিত ধর্মকে ইহুদী ধর্ম’ বলেন নি। ইবরাহীম (আ.) এর দ্বিতীয় বিবির নাম ছিল হাজেরা’। তার বংশধারার অন্যতম নবী হলেন ইসমাইল (আ.) ও মুহাম্মদ (সা.)। তারা উভয়ই মুসলিম ছিলেন।

মুহাম্মদ (সা.) এর প্রচারিত ধর্মকে Muhammedan Religion, Mohammedanism, তাঁর অনুসারীদেরকে Mohammedan এবং ইসলামী আইনকে Mohammedan Law হিসাবে চালিয়ে দেবার বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা কামিয়াব হতে পারেনি। আল্লাহ আল-কুরআনকে যেভাবে। হেফাযত করেছেন, তেমনি ইসলাম ও মুসলিম’ শব্দদ্বয়কে হেফাযত করেছেন। “অবশ্যই আমি এ কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই এর হেফাযতকারী।’ (সূরা-হিজর : আয়াত-৯)

মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত সর্বশ্রেষ্ঠ ও পরিপূর্ণ নিয়মিত হলাে মানুষের জীবনবিধান দ্বীন ধর্ম :

“আজ আমি তােমাদের জীবনবিধান পরিপূর্ণ করে দিলাম, তােমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তােমাদের জীবনবিধান হিসাবে মনােনীত করলাম।’ (সূরা-আল মায়েদা : আয়াত-৩)।

মানুষের জীবনবিধান দ্বীন ধর্মের উৎপত্তি কিভাবে হলাে :

আল্লাহ পৃথিবী নামক গ্রহে তাঁর প্রতিনিধি অর্থাৎ খলিফা বানানাের উদ্দেশ্যে আদম সৃষ্টি করলেন। “নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে খলিফা (প্রতিনিধি) বানাতে চাই।’ (সূরা-বাকারা : আয়াত-৩০)

আদম ও তার জীবন সঙ্গিনী হাওয়াকে সাময়িক সময়ের জন্য (For the time being) জান্নাতে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে একটি ভুল সংঘটিত হবার পর আল্লাহ আদম, হাওয়া ও ইবলিসকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিলেন। আদম ও হাওয়া তাদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন :

“হে আমাদের রব, আমরা নিজেদের উপর জুলুম করে ফেলেছি। আপনি যদি আমাদেরকে মাফ না করেন, তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শামিল হয়ে যাব।’ (সূরা-আল-আরাফ : আয়াত-২৩)

আল্লাহ তাদেরকে মাফ করে দিলেন। ইবলিসের ধােকার কারণে আদম ও হাওয়া বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। দুনিয়াতে ইবলিসও তাদের সাথে অবস্থান করবে-একথা ভেবে তারা পেরেশান হয়ে যান। আল্লাহ তাদের মনােভাব বুঝতে পেরে বললেন ;

“তােমরা সবাই এখনি (জান্নাত) থেকে নেমে যাও। অতঃপর আমার নিকট থেকে যে জীবনবিধান তােমাদের নিকট পৌছবে, যারা আমার প্রদত্ত জীবনবিধান (দ্বীন/ধর্ম) মেনে চলবে, তাদের জন্য ভয় ও চিন্তার কোন কারণ থাকবে না। আর যারা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করবে এবং আমার বাণী ও আদেশ নিষেধ প্রত্যখিনি করবে, তারা হবে নিশ্চিত জাহান্নামী এবং সেখানে থাকবে তারা চিরকাল।’ (সূরা-বাকারা : আয়াত ৩৮ ও ৩৯)

এ পটভূমিকায় আল্লাহতায়ালা প্রথম মানুষ আদমকে পৃথিবীর প্রথম নবী মনােনীত করেন। আল্লাহ ফেরেশতা সর্দার জিবরাইল (আ.) এর মাধ্যমে প্রথম নবী আদম (আ.) এর নিকট ক্রমান্বয়ে জীবনবিধান অন্য কথায় দ্বীন বা ধর্মের বিধান পাঠাতে থাকেন।

আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত জীবনবিধানের নাম হল ইসলাম। আদম (আ.) ইসলাম ধর্ম তাঁর বংশধরদের মধ্যে প্রচার করতে থাকেন। তিনি মানুষের মধ্যে প্রথম ইসলাম ধর্ম প্রবর্তন করেন—অথচ বহুলােক অজ্ঞতাবশত মুহাম্মদ (সা.) কে ইসলামের প্রবর্তক বলে আখ্যায়িত করে। প্রকৃতপক্ষে মুহাম্মদ (সা.) হলেন ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল। কালের পরিক্রমায় আদম (আ.) ইন্তেকাল করেন। আদম জাতি পৃথিবীর চর্তুদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আদম (আ.) এর শিক্ষা মানুষ ভুলে যেতে থাকে।

ফলে নবী আগমনের প্রয়ােজনীয়তা দেখা দেয়। আল্লাহ্ মানবজাতির হেদায়াতের জন্য নবী পাঠাতে থাকেন। নবী রাসুল আগমনের এ সিলসিলা চলতে থাকে। নবী রাসুলদের সংখ্যা কমপক্ষে ১ লাখ ২৪ হাজার। “হে মুহাম্মদ! আমি তােমার পূর্বে বহুজাতির মধ্যে নবী রাসুল পাঠিয়েছি।’

(সূরা-হিজর : আয়াত-১০)

‘আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে রাসুল প্রেরণ করেছি এ নির্দেশ দিয়ে যে, আল্লাহর। বন্দেগী কর আর তাগুত থেকে বিরত থাক। আল কুরআনে মাত্র ২৫ জন নবী রাসুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি কমপক্ষে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৫ জন নবীর নাম আমরা জানিনা। তারা কোন কালে, কোন অঞ্চলে কোন জাতির জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন তাও আমরা জানিনা। তবে এটা নিশ্চিত যে, যেখানে মানুষের বসবাস ছিল, সেখানে নবী এসেছিলেন।

সব নবী রাসুলদের একই দাওয়াত ছিল : “আল্লাহর বন্দেগী কর আর তাগুতের অনুসরণ থেকে বিরত থাকো।’ (সূরা-নাহলঃ আয়াত-৩৬)। “মানুষের এই প্রাথমিক বংশধররা মুখতা, অজ্ঞতা ও অন্ধকারের মধ্যে সৃষ্ট হননি। আল্লাহ পৃথিবীতে তাদের জীবনের সূচনা করেন সম্পূর্ণ আলাের মধ্যে, তারা সত্যকে জানতেন। তাদেরকে জীবন বিধান দেয়া হয়েছিল। আল্লাহর আনুগত্য (অর্থাৎ ইসলাম) ছিল তাদের জীবন পদ্ধতি । তারা তাদের সন্তানদেরও। আল্লাহর অনুগত বান্দাহ (মুসলিম) হিসেবে জীবনযাপন করার কথা শিখিয়ে গেছেন। কিন্তু পরবর্তীকালে শত শত বছরের জীবনাচরণে মানুষ ধীরে ধীরে এই সঠিক জীবনপদ্ধতি (অর্থাৎ দ্বীন) থেকে দূরে সরে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভুল কর্মনীতি অবলম্বন করেছে। গাফিলতির ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে তারা এক সময় এই সঠিক জীবনপদ্ধতি হারিয়ে ফেলেছে। আবার শয়তানি প্ররােচনায় একে বিকৃতও করেছে। তারা পৃথিবী ও আকাশের মানবিক ও অমানবিক এবং কাল্পনিক ও বস্তুগত বিভিন্ন সত্ত্বাকে আল্লাহর সাথে কাজ-কারবারে শরিক করেছে।

আল্লাহপ্রদত্ত যথার্থ জ্ঞানের (আল ইলম) মধ্যে বিভিন্ন প্রকার কল্পনা, ভাববাদ, মনগড়া মতবাদ ও দর্শনের মিশ্রণ ঘটিয়ে তারা অসংখ্য ধর্মের সৃষ্টি করেছে। তারা আল্লাহর নির্ধারিত ন্যায়নিষ্ঠ ও ভারসাম্যপূর্ণ নৈতিক ও সাংস্কৃতিক নীতি (শরিয়াত) পরিহার বা বিকৃত করে নিজেদের প্রবৃত্তি, স্বার্থ ও ঝোঁকপ্রবণতা অনুযায়ী জীবনযাপনের জন্য নিজেরাই এমন বিধান তৈরি করেছে যার ফলে আল্লাহর এই যমিন জুলুম-নিপীড়নে ভরে গেছে। আল্লাহ যদি তাঁর স্রষ্টাসুলভ ক্ষমতা প্রয়ােগ করে বিপথগামী মানুষদেরকে জোরপূর্বক সঠিক কর্মনীতি ও জীবনধারার দিকে ঘুরিয়ে দিতেন তাহলে তা হতাে মানুষকে আল্লাহ প্রদত্ত সীমিত স্বাধীনতা দান নীতির পরিপন্থী।

আবার এ ধরনের বিদ্রোহ দেখা দেয়ার সাথে সাথেই তিনি যদি মানুষকে ধ্বংস করে দিতেন তাহলে সেটি হতাে সমগ্র মানবজাতিকে পৃথিবীতে কাজ করার জন্য তিনি যে সময় ও সুযােগ নির্ধারণ করে দিয়েছেন তার সাথে অসামঞ্জস্যশীল। সৃষ্টির প্রথমদিন থেকে তিনি যে দায়িত্বটি গ্রহণ করেছিলেন সেটি ছিল এই যে, মানুষের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রেখে কাজের মাঝখানে যেসব সুযােগ-সুবিধা দেয়া হবে তার মধ্য দিয়েই তিনি তাকে “খনির্দেশনা দেয়ার ব্যবস্থা করবেন। কাজেই নিজের ওপর আরােপিত দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি মানবজাতির মধ্য থেকে এমন একদল লােককে ব্যবহার করতে শুরু করেন যারা তাঁর ওপর ঈমান রাখতেন এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে যেতেন। এঁদেরকে তিনি করেন নিজের প্রতিনিধি।

এঁদের কাছে পাঠান নিজের অলংঘনীয় বাণী। যথার্থ সত্য জ্ঞান ও জীবন-যাপনের সঠিক বিধান এঁদেরকে দান করে, তিনি বনি আদমকে ভুল পথ থেকে এই সহজ-সত্য পথের দিকে ফিরে আসার দাওয়াত দেয়ার জন্য এদেরকে নিযুক্ত করেন। এঁরা ছিলেন আল্লাহর নবী। বিভিন্ন দেশে ও বিভিন্ন জাতির মধ্যে আল্লাহ তাঁর নবী পাঠাতে থাকেন। হাজার হাজার বছর থেকে তাদের আগমনের এ সিলসিলা বা ধারাবাহিকতা চলতে থাকে। তারা সবাই একই দ্বীনের তথা জীবনপদ্ধতির অনুসারী ছিলেন।

অর্থাৎ সৃষ্টির প্রথম দিন থেকেই মানুষকে যে সঠিক কর্মনীতির সাথে পরিচিত করানাে হয়েছিল তারা সবাই ছিলেন তারই অনুসারী। তারা সবাই ছিলেন একই হেদায়াতের প্রতি অনুগত। অর্থাৎ প্রথম দিন থেকেই মানুষের জন্য নৈতিকতা ও সমাজ-সংস্কৃতির যে চিরন্তন নীতি নির্ধারণ করা হয়েছিল তারা ছিলেন তারই প্রতি অনুগত।

তাঁদের সবার একই মিশন ছিল। অর্থাৎ তারা নিজেদের বংশধর, গােত্র ও জাতিকে একই দ্বীন ও হেদায়াতের দিকে আহ্বান জানান। তারপর যারা এ আহ্বান গ্রহণ করে তাদেরকে সংগঠিত করে এমন| একটি উম্মতে পরিণত করেন যারা নিজেরা হন আল্লাহর আইনের অনুগত এবং দুনিয়ায় আল্লাহর আইনের আনুগত্য কায়েম করার এবং তার আইনের বিরুদ্ধাচরণ প্রবণতা প্রতিরােধ করার জন্য প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম চালাতে থাকেন।

এই নবীগণ প্রত্যেকেই তাদের নিজেদের যুগে অত্যন্ত সুচারুরূপে এ মিশনের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু সবসময় দেখা গেছে মানবগােষ্ঠীর একটি বিরাট অংশ তাঁদের দাওয়াত গ্রহণ করতে প্রস্তুতই হয়নি। আর যারা এই দাওয়াত গ্রহণ করে উম্মতে মুসলিমার অঙ্গীভূত হয় তারাও ধীরে ধীরে নিজেরাই বিকৃতির সাগরে তলিয়ে যেতে থাকে। এমনকি তাদের কোনাে কোনাে উম্মত আল্লাহ প্রদত্ত হেদায়েতকে একেবারেই হারিয়ে ফেলে। আবার কেউ কেউ আল্লাহর বাণীর সাথে নিজেদের কথার মিশ্রণ ঘটিয়ে এবং তার মধ্যে পরিবর্তন সাধন করে তার চেহারাই বিকৃত করে দেয়। সবশেষে বিশ্ব-জাহানের প্রভু সর্বশক্তিমান আল্লাহ আরব দেশে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাঠান।

ইতােপূর্বে বিভিন্ন নবীকে তিনি যে দায়িত্ব দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছিলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপরও সেই একই দায়িত্ব অর্পণ করেন। সাধারণ মানুষের সাথে সাথে পূর্বের নবীদের পথভ্রষ্ট উম্মতদেরকেও তিনি আল্লাহর দ্বীনের দিকে আহ্বান জানান। সবাইকে সঠিক কর্মনীতি ও সঠিক পথ গ্রহণের দাওয়াত দেন। সবার কাছে নতুন করে আল্লাহর হেদায়াত পৌছে দেয়া এবং এই দাওয়াত ও হেদায়াত গ্রহণকারীদেরকে এমন একটি উম্মতে পরিণত করাই ছিল তার কাজ যেন একদিকে আল্লাহর হেদায়েতের ওপর নিজেদের জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করবে এবং অন্যদিকে সমগ্র দুনিয়ার সংশােধন ও সংস্কার সাধনের জন্য প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম চালাবে।” (লেখক প্রণীত ‘সেকুলারিজম’ বই থেকে উস্কৃতি, পৃষ্ঠা-১২৪-১২৬)।

“আমি তােমার উপর (হে মুহাম্মাদ) তেমিন ওহির মাধ্যমে জ্ঞান দিয়েছি, যেমনি নুহকে এবং তার পরবর্তী সমস্ত নবীদের ওহির জ্ঞান দিয়েছিলাম। এভাবে আমি ইবরাহীম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার বংশধরদের অনেককেই এই ওহির জ্ঞান দিয়েছিলাম। এবং ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারুন ও সােলায়মানকে ওহির জ্ঞান দিয়েছিলাম। আর দাউদকে দিয়েছিলাম যবুর কিতাব। সে সব নবীদের অনেকের সম্পর্কে তােমাকে ইতােমধ্যেই বলা হয়েছে। আর অনেকের কথাই বলা হয় নাই। আর জেনে রাখ- মুসার সাথে আল্লাহ সরাসরি কথা বলেছেন। আমি নবী রাসুল পাঠিয়েছি শুভ সংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে, যাতে এভাবে রাসুল আগমনের পর আর কোন মানুষের পক্ষে আল্লাহর বিরুদ্ধে কোন অভিযােগ করার সুযােগ না থাকে।’ (সুরা-নিসা : আয়াত- ১৬৩-১৬৫)