হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর কনিষ্ঠ পুত্র হযরত ইসহাক (আঃ)-এর পুত্র ইয়াকূব (আঃ)-এর অপর নাম ছিল ইস্রাঈল। হিব্রু ভাষায় ‘ইস্রাঈল’ অর্থ ‘আল্লাহর দাস’। সে হিসাবে ইয়াকূব (আঃ)-এর বংশধরগণকে ‘বনু ইস্রাঈল বলা হয়। কুরআনে তাদেরকে বনু ইস্রাঈল বলে অভিহিত করা হয়েছে, যাতে আল্লাহর দাস’ হবার কথাটি তাদের বারবার স্মরণে আসে। ইয়াকূব (আঃ) ও বনু ইস্রাঈলদের আদি বাসস্থান ছিল কেন’আনে, যা বর্তমান ফিলিস্তীন এলাকায় অবস্থিত। তখনকার সময় ফিলিস্তীন ও সিরিয়া মিলিতভাবে শাম দেশ ছিল। বলা চলে যে, প্রথম ও শেষনবী ব্যতীত প্রায়। সকল নবীর আবাসস্থল ছিল ইরাক ও শাম অঞ্চলে। যার গােটা অঞ্চলকে এখন ‘মধ্যপ্রাচ্য’ বলা হচ্ছে। ইয়াকুব (আঃ)-এর পুত্র হযরত ইউসুফ (আঃ) যখন মিসরের অর্থমন্ত্রী ও পরে শাসনকর্তা নিযুক্ত হন এবং অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় কেন’আন অঞ্চলেও চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন ইউসুফ (আঃ)-এর আমন্ত্রণে পিতা ইয়াকূব (আঃ) স্বীয় পুত্রগণ ও পরিবারবর্গ সহ হিজরত করে মিসরে চলে যান।

বনু ইস্রাঈলের পূর্ব ইতিহাস

ক্রমে তারা সেখানে আধিপত্য বিস্তার করেন ও সুখে-শান্তি তে দিনাতিপাত করতে থাকেন।তারীখুল আম্বিয়া-র লেখক বলেন, ইউসুফ | (আঃ)-এর কাহিনীতে কোথাও ফেরাউনের নাম উল্লেখ না থাকায় প্রমাণিত হয় যে, ঐ সময় ফেরাউনদের হটিয়ে সেখানে হাকসূস’ রাজাদের রাজত্ব কায়েম হয়। যারা দু’শাে বছর রাজত্ব করেন এবং যা ছিল ঈসা (আঃ)-এর জন্মের প্রায় দু’হাযার বছর আগের ঘটনা। অতঃপর মিসর পুনরায় ফেরাউনদের অধিকারে ফিরে আসে।

ইউসুফ (আঃ)-এর মৃত্যুর পরে তার পঞ্চম অধঃস্তন পুরুষ মূসা ও হারূনের সময় যে নিপীড়ক ফেরাউন শাসন ক্ষমতায় ছিল তার নাম ছিল রেমেসীস-২। অতঃপর তার পুত্র মারপেতাহ-এর সময় সাগরডুবির ঘটনা ঘটে এবং সৈন্য-সামন্ত সহ তার সলিল সমাধি হয়। ‘ফেরাউন ছিল মিসরের ক্বিবতী বংশীয় শাসকদের উপাধি। কৃিতীরা ছিল | মিসরের আদি বাসিন্দা। এক্ষণে তারা সম্রাট বংশের হওয়ায় শাম থেকে আগত সুখী-স্বচ্ছল বনু ইস্রাঈলদের হিংসা করতে থাকে। ক্রমে তা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের রূপ পরিগ্রহ করে। এক বর্ণনায় এসেছে যে, ইয়াকূবের মিসরে আগমন থেকে মূসার সাথে মিসর থেকে বিদায়কালে প্রায় চারশত বছর সময়ের মধ্যে তাদের সংখ্যা দাড়িয়েছিল কাছাকাছি প্রায় তিন মিলিয়ন এবং এ সময় তারা ছিল মিসরের মােট জনসংখ্যার ১০ থেকে ২০ শতাংশ।

তবে এগুলি সবই ইস্রাঈলীদের কাল্পনিক হিসাব মাত্র। যার কোন ভিত্তি নেই। বরং কুরআন বলছে !

“নিশ্চয়ই তারা ছিল ক্ষুদ্র একটি দল (শ’আরা ২৬/৫৪)। এই বহিরাগত নবী বংশ ও ক্ষুদ্র দলের সুনাম-সুখ্যাতিই ছিল সংখ্যায় বড় ও শাসকদল কিবতীদের হিংসার কারণ। এরপর জ্যোতিষীদের ভবিষ্যদ্বাণী ফেরাউনকে ভীত ও ক্ষিপ্ত করে তােলে।