আল্লাহর গযবে ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবীর আদি ৬টি জাতির মধ্যে কওমে নূহ, ‘আদ, ছামূদ, লুত্ব ও কওমে মাদইয়ানের বর্ণনার পর ষষ্ঠ গ্যবপ্রাপ্ত জাতি হিসাবে কওমে ফেরাউন সম্পর্কে আল্লাহ পাক কুরআনের ২৭টি সুরায় ৭৫টি স্থানে বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলােচনা করেছেন। কুরআনে সর্বাধিক আলােচিত বিষয় হল এটি। যাতে ফেরাউনের চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য ও তার যুলুমের নীতি-পদ্ধতি সমূহ পাঠকদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় এবং এযুগের ফেরাউনদের বিষয়ে উম্মতে মুহাম্মাদী হুশিয়ার হয়।

ফেরাউনের কাছে প্রেরিত নবী মূসা ও হারূণ (আঃ) সম্পর্কে কুরআনে সর্বাধিক আলােচনা স্থান পেয়েছে। কারণ মূসা (আঃ)-এর মু’জেযা সমূহ অন্যান্য নবীদের তুলনায় যেমন বেশী ছিল, তার সম্প্রদায় বনী। ইস্রাঈলের মূর্খতা ও হঠকারিতার ঘটনাবলীও ছিল বিগত উম্মতগুলির তুলনায় অধিক এবং চমকপ্রদ। এতদ্ব্যতীত মূসা (আঃ)-কে বারবার পরীক্ষা নেবার | মধ্যে এবং তাঁর কওমের দীর্ঘ কাহিনীর আলােচনা প্রসঙ্গে বহু জ্ঞাতব্য বিষয়

ও আদেশ-নিষেধের কথাও এসেছে। সর্বোপরি শাসক সম্রাট ফেরাউন ও তার কিবতী সম্প্রদায় কর্তৃক সংখ্যালঘু অভিবাসী বনু ইস্রাঈল সম্প্রদায়ের উপর যুলুম-অত্যাচারের বিবরণ ও তার প্রতিরােধে মূসা (আঃ)-এর প্রচেষ্টা এবং দীর্ঘ বিশ বছর ধরে যালেম সম্প্রদায়ের উপরে আপতিত বিভিন্ন গযবের বর্ণনা ও অবশেষে ফেরাউনের সদলবলে সলিল সমাধির ঘটনা যেন জীবন্ত বাণীচিত্র হয়ে ফুটে উঠেছে বিভিন্ন সূরায় বর্ণিত কুরআনের অনুপম বাকভঙ্গীতে।

হযরত মূসা ও হারূণ (আলাইহিস সালাম)

মােটকথা কুরআন পাক মূসা (আঃ)-এর কাহিনীকে এত গুরুত্ব দিয়েছে যে, অধিকাংশ সূরায় এর কিছু না কিছু বর্ণিত হয়েছে। কারণ এই কাহিনীতে অগণিত শিক্ষা, আল্লাহ তা’আলার অপার শক্তি ও অনুগ্রহের বিস্ময়কর রহস্য সমূহ সন্নিবেশিত হয়েছে। এগুলােতে কর্মোদ্দীপনা ও চারিত্রিক সংশােধনের নির্দেশিকা সমূহ প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান রয়েছে।

মূসা (আঃ) ও ফেরাউনের ঘটনা কুরআনে বারবার উল্লেখ করার অন্যতম। উদ্দেশ্য হল, এলাহী কিতাবধারী ইহুদী-নাছারাদের পিছনের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং শেষনবীর উপরে ঈমান আনার পক্ষে যৌক্তিকতা উপস্থাপন করা। উল্লেখ্য যে, পরবর্তী রাসূল দাউদ, সুলায়মান ও ঈসা।

পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর কাহিনী (আলাইহিমুস সালাম) সবাই ছিলেন বনু ইস্রাঈল-এর সম্প্রদায়ভুক্ত এবং তাদের প্রতি প্রেরিত নবী। মূসা (আলাইহিস সালাম) ছিলেন এদের সবার মূল ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। উল্লেখ্য যে, কওমে মূসা ও ফেরাউন সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের মােট ৪৪টি সূরায় ৫৩২টি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।