সমস্ত প্রশংসা রাব্বল আলামীনের জন্য এবং দরূদ ও সালাম বর্ষিত হােক তাঁর বিশস্ত রাসূলের প্রতি আর শেষ পরিণতি মােত্তাকীনদের জন্য। এ মনপুত আরামদায়ক জীবনের শেষে আগত সবচেয়ে কঠিন ,বেদনাদায়ক,স্ত র হল মৃত্যু। মৃত্যু ঐ তিক্ত স্বাদ যা প্রত্যেক প্রাণীকে গ্রহণ করতে হবে । আল্লাহ তা’লা এরশাদ করেনঃ

كل نفس ذائقة الموت (سورة الأنبياء)

অর্থঃ“ জীব মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। (সূরা আম্বায়া-৩৫) অন্যত্র আল্লাহ তা’লা এরশাদ করেনঃ

كل شيء هالك إن وجهه ( سورة القصص)

অর্থঃ “আল্লাহর চেহারা (সত্ব) ব্যতীত সব কিছু ধ্বংস শীল।”

| (সূরা কাসাস- ৮৮)। মৃত্যুর পর কোন মানুষ ফিরে আসে না, তাই মৃত্যুর ভয়াবহতা হুবহু বর্ণনা করা সম্ভব নয়। কিন্ত কোরআন ও হাদীসে মৃত্যুর কঠিনতা ও ভয়াবহতার ব্যপারে, যা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে অনুমান হয় যে পৃথিবীর সর্বপ্রকার দুঃখ্য ব্যথা, চিন্ত 1, কষ্ট, বিপদ যদি একত্রিত হয়, তাহলে মৃত্যুর কষ্ট কয়েক গুণ বেশী হবে ! সূরা কাফে আল্লাহ তা’লা এরশাদ করেনঃ

وجاءت سكرة الموت بالحق (سورة ق

অর্থঃ “মৃত্যুযন্ত্রনা সত্যই আসবে।” (সূরা রফ-১৯) আয়াতে বণিত (64)থেকে উদেশ্যঃ আলমে বারযাখের প্রকৃত অবস্থা। ফেরেশতাদেরকে দেখতে পাওয়া যাবে, আযাব বা সােয়াব সম্পকে দৃঢ় বিশ্বাস হয়ে যাবে। মৃত্যুর কঠোরতা বর্ণনা করতে গিয়ে সূরা কিয়ামায় বর্ণিত হয়েছেঃ

|

از كلا إذا بلغت التراقي وقيل من راقي وظن أنه الفراق والتفت أنساق بالساق.

অর্থঃ কিছুতেই (তােমাদের ধারনা ঠিক নয়,যখন প্রাণ উষ্ঠাগত হবে, এবং বলা হবেঃ কে তাকে রক্ষা করবে? তখন তার প্রত্যয় হবে যে, এটা তাদের বিদায় ক্ষণ। এবং পায়ের সাথে পা জড়িয়ে যাবে।” ( সূরা কিয়ামাহ-২৬-২৯)পায়ের সাথে পা জড়িয়ে যাওয়ার অর্থ হল মৃত্যুর সময় মৃত্যু যন্ত্রনা পর্যায় ক্রমে বৃদ্ধি। পেতে থাকে ফলে মানুষের প্রাণ বের হয়ে যায়। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি

এরশাদ করেনঃ মৃত্যু যন্ত্রনা অত্যন্ত কঠিন।(আহমদ) অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছেঃ স্বাদ বিনষ্টকারী কে (মৃত্যু)বেশি বেশি স্মরণ কর ।(তিরমিযী,নাসায়ী, ইবনে মাযাহ) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে অসুস্থতায় পতিত হয়ে মৃত্যু বরন করেন সেখানে তাঁর অবস্থা এ ছিল যে পানির পাত্র সাথে রাখতেন এবং সেখানে বারংবার হাত ভিজিয়ে চেহারায় মুছতেন ,স্বীয় চাদর দিয়ে কখােন মুখ ঢাকতেন, আবার কখোন তা মুখ থেকে সড়িয়ে নিতেন,যখন মৃতু্য যন্ত্রনায় বেহুশ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। হতেন তখন তিনি তার চেহারা থেকে ঘাম মুছতেন আর বলতেন ঃ

سبحان الله ان تلموت نسکات سبحان اله؟

অর্থঃ “মৃত্যু যন্ত্রনা বড় কঠিন।” (বােখারী) আয়শা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেনঃ “নবী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) মৃত্যু যন্ত্রনা দেখার পর কারাে মৃত্যু যন্ত্রনা আমার নিকট আর কঠিন বলে মনে হতনা।” (বােখারী)

জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) যানে অস্পষ্টতা এসে গিয়েছিল। (ইবনে মাযাহ) (মিশর বিজয়ী সাহাবী) আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বার বার বলতে ঐ সমস্ত লােকদের কে দেখে আমার আশ্চর্য লাগে মৃত্যুর সময় যাদের হুশ ওয়ান ঠিক থাকে অথচ তারা কেন যেন মৃত্যুর হাকীকত বর্ণনা করেনা । আমর বিন আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন। মৃত্যু সয্যায় সায়িত ছিলেন তখন তাকে আবদুল্লা বিন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তার ঐ কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। আমর (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু শীতল নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলতে লাগলেনঃ মৃত্যুর প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা করার মত নয়। তবে এতটুকু বলতে পারি যে আমার মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীর উপর আকাশ ভেঙ্গে পরেছে আর আমি এ উভয়ের মাধ্যমে পেশিত হচ্ছি এবং আমার কাঁধে মনে হয় কোন পাহাড় রাখা হয়েছে, পেটে খেজুরের কাটা ভরে।

দেয়া হয়েছে, আর মনে হচ্ছে যে আমার শ্বাস সূঁয়ের ছিদ্র দিয়ে বের হচ্ছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মােমেন ও কাফেরের মৃত্যুর আলাদা ধরনের কথা বর্ণনা করেছেন। যার সার সংক্ষেপ এই যে যখন মােমেনের। মৃত্যুর সময় হয়, তখন সূযের ন্যায় আলােকময় চেহারা সম্পন্ন ফেরেশতা জান্নাত থেকে সুগন্ধময় রেশমী কাফন সাথে নিয়ে এসে মােমেন ব্যক্তিকে সালাম করে, মালাকুল মাওত তার রূহ কবজ করার পূবে তাকে সুসংবাদ দেয়। যে হে পবিত্র আত্মা ! তুমি খুশী হও তােমার জন্য রয়েছে আল্লাহর রহমত এবং জান্নরে নে’মত সমূহ। এ সু সংবাদ সােনে মােমেন ব্যক্তির অন্তর “আল্লাহর নিকট যাওয়ার জন্য উদগ্রিব হয়ে যায়। আর মােমেন ব্যক্তির আত্মা

কবরের বর্ণনা তার শরীর থেকে এমন ভাবে বের হয় যেন কোন পানির বােতলের মুখ খুলে। দিলে পানি বের হয়ে যায়। ফেরেশতা রুহ কবজ করার পর তা সুগন্ধময় সাদা রেশমী কাপড়ে জড়িয়ে আকাশের দিকে নিয়ে যায়, তখন মােমেন ব্যক্তির রুহ থেকে এত বেশী সুগন্ধ বের হয় যে, আকাশের ফেরেশতাগণ তা অনুভব করে একে অপর কে বলতে থাকে যে কোন মােমেন ব্যক্তির রুহ উপরে আসছে।” ফেরেশতা গণ আকাশের দরজা নখ করা মাত্র প্রথম আকাশের ফেরেশতা গণ জিজ্ঞাস করে যে এ কোন পবিত্র আত্মা? উত্তরে তাকে বহন কারী ফেরেশ্তা গণ বলে যে সে অমুকের ছেলে অমুক,তখন আকাশের ফেরেশতা গণ তার জন্য দরজা খুলে দেয় এবং তাকে সু স্বাগতম জানায়।

এ পবিত্র আত্মাকে আল্লাহর রহমত ও নেমতের সুসংবাদ দেয়। ফেরেশতা গণ তাকে দ্বিতীয় আকাশে নিয়ে যায় প্রথম আকাশের ফেরেশতা গণ তাকে সন্মান সরুপ দ্বিতীয় আকাশ পর্যন্ত তাকে বিদায় জানাতে তার সাথে যায়। দ্বিতীয় আকাশে মােমেনের আত্মা কে প্রথম আকাশের ন্যায় সু স্বাগতম জানানাে হয় , অতঃপর তৃতীয় চতুর্থ, এমন কি সপ্তম আকাশ পর্যন্ত রুহ পৌছে যায় । ওখানে পৌঁছার। পর আল্লাহ তা’লার পক্ষ থেকে নির্দেশ আশে যে আমার এবান্দার নাম এল্লিয়ীনে(উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন লােকদের তালিকায়) লিখ ।

অতঃপর প্রশ্নউত্তরের জন্য তার রুহ পুনরায় শরীরে ফেরত পাঠানাে হয়। কবরে আগন্তক ফেরেশতা গণ কে মােনকার ও কীর বলে, তাদে,চেহারা। কালাে চোখ মােটা মােটা উজ্জ দাত গাভীর সিংয়ের ন্যায় বড় বড় বিজলির ন্যায় চমক দার, ঐ দাত দিয়ে মাটি ঘসতে ঘসতে এসে করকশ স্বরে বলবেঃ (L:৩৮ ) তোমার প্রভু কে? (s ) তােমার নবী কে?(55.2 ‘ ) তােমার দ্বীন কি ছিল? কবরের অন্ধকার, একাকীত্ব, মােনকার নাকীরের ভয়ানক চেহারা দেখা সত্বে ও মােমেন ব্যক্তি কোন প্রকারের ভয় অনুভব করবে না। বরং ধিরস্থিরতার সাথে যেন কার নাকীরের প্রশ্নের উত্তর দিবে।

প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় কোন কোন ঈমান দারের নিকট সূর্য অস্তমিত হওয়ার মত মনে হবে। তাই মােমেন বাত্তি ফেরেশতাদের প্রশ্নের উত্তরে বলবে একটু দাড়াও আমাকে আগে নামায পড়তে দাও , এর পর আমি তােমাদের প্রশ্নের উত্তর দিব। অতঃপর যখন সে অনুভব করবে যে, এটা নামায আদায়ের স্থান নয়, তখন সে মােনকার নকীরের প্রশ্নের উত্তর দেয়া শুরু করবে। প্রশ্নউত্তরের পর জাহান্নামের দিকে একটি ছিদ্র করে মােমেন ব্যক্তি কে জাহান্নামের আগুণ দেখানাে হবে এবং বলা হবে যে এটা জাহান্নাম, যেখান থেকে আল্লাহ

স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহের মাধ্যমে তােমাকে রক্ষ: করেছে । অতঃপর জান্নাতের কবরের বর্ণনা দিকে একটি ছিদ্র বা দরজা খুলে দেয়া হবে, যার ফলে মােমেন ব্যক্তি জান্নাতের নে’মত সমূহ দেখে আনন্দ অনুভব করবে ।ঐ সময়ে মােমেন কে জান্নাতে তার বাসস্থান ও দেখানাে হবে, তার কবর সত্তর হাত বা যতদুর দৃষ্টি যাবে তত দূর পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেয়া হবে। এবং তার কবর কে চৌদ্দ তারিখের চাদের আলাের ন্যায় আলােকময় করে দেয়া হবে ।জান্নাতের সুগন্ধিময় পােশাক তাকে পরানাে হবে। জান্নাতের সুগন্ধিময় আরামদায়ক নরম বিছানা তার জন্য প্রস্তুত করে দেয়া হবে ।

কবরে মােমেন ব্যক্তির সামনে খুব সুন্দর চেহারা সম্পণ্য সুগন্ধিময় পােশাক পরিহিত এক ব্যক্তি আসবে , মােমেন্ ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাস করবে যে তুমি কে? সে বলবে আমি তােমার নেক আমল, তােমাকে পরকালীন জীবনে আরাম ও সুখ-শান্তির সু সুংবাদ দিতে এসেছি। তখন মােমেন ব্যক্তি দূয়া করবে যে | হে আমার প্রভু! তুমি তাড়াতাড়ি কিয়ামত সংঘটিত কর ।যাতে করে আমি আমার পরিবার পরিজনের সাথে দ্রুত সাক্ষাৎ করতে পারি।কোন কোন হাদীসে এও বর্ণিত হয়েছে যে, মােমেন ব্যক্তি বলবে যে আমি আমার পরিবারপরিজনের নিকট ফেরৎ যেতে চাই,যাতে করে তাদের কে আমার শুভ পরিণতি সম্পকে আগত করাতে পারি।

উত্তরে ফেরেশতাগণ বলবে যে তুমি এখন বরের ন্যায় আরামে শুয়ে যাও কেন ফেরৎ যাওয়া সম্ভব নয়। তখন মােমেন ব্যক্তি শুয়ে যাবে, কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত সে এভাবে ঘুমাতে থাকবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে উঠাবেন এবং তখন থেকে তার পরকালীন সফরের পরবর্তী স্তর শুরু হবে। যার বিস্তারিত বর্ণনা ইনশআল্লাহ সামনে আসবে। যখন কাফেরের মৃত্যুর সময় আসে তখন তার যান কৰা করার জন্য অত্যন্ত কুৎসিত চেহারা সম্পন্য ফেরেশতা দূগন্ধ ময় কাফন সাথে নিয়ে এসে তাকে হে পৰীছ রুহ ! হে অসন্তুষ্ট হ ! ইত্যাদি শন্দের মাধ্যমে সম্বোদন করে তাকে আল্লাহর অসন্তুষ্টি এবং জাহান্নামের সু সংবাদ দেয় ।তা। শােনে কাফেরের রুহ শরীর থেকে বের হতে চায়না।

তখন ফেরেশতা গণ তার। রুহ এমন ভাবে যাের করে বের করে যেমন অকেজু লােহা কোন খুঁটি থেকে যাের করে বের করা হয়। কৌর আ’ন মাজীদে তা বের করার। পদ্ধতির কথ এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, ৩ls;’;) ~~ (L’ala jL11) অর্থঃ শপথ তাদের (ফেরেশতার) যারা নির্মম ভাবে উৎপাটন করে। (সূরা নামিয়াত-১) অর্থাৎ তাদের রুহ বের হতে চায়না কিন্ত ফেরেশতাগণ তা যাের করে বের করে নেয়।

অর্থঃ আর যদি তুমি দেখতে পেতে ঐ সময়ের অবস্থা যখন যালিমরা সম্মুখীন হয় মত্যু সংকটে, আর ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে বলবেঃনিজেদের প্রানগুলাে বের কর, আজ তােমাদের কে সে সব অপরাধের শাস্তি হিসেবে লাঞ্ছনাময় শাস্তি দেয়া হবে যেহেতু তােমরা আল্লাহর উপর মিথ্যা দোষারােপ করে অকারণে প্রলাপ বকছিলে এবং তার আয়াত সমূহ কবুল করতে অহংকার। করছিলে (সূরা আনআম -৯৩) এ সময়ে কাফেরের রুহ থেকে এত দূরগন্ধ আসে, যেমন কোন পচা গলা মৃত দেহ থেকে বর্ণনাতীথ দূর গন্ধ আসে। ফেরেশতা যখন তাকে আকাশের দিকে নিয়ে যেতে থাকে, তখন আকাশের ফেরেশতাগণ ওখানে থেকেই অনুভব। করেন এবং বলেন যে কোন খবীছ রুহ আকাশের দিকে নিয়ে আসা হচ্ছে।

যখন মালাকুল মাওত কাফেরের দূর গন্ধময় রুহ নিয়ে প্রথম আকাশে পৌঁছে তথন দরজায় টোকা দেয়া মাত্র জিজ্ঞাস করা হয় যে কে সে? উত্তরে মালাকুল। মাওত বলেঃ সে ওমকের ছেলে ওম। তখন আকাশের ফেরেশতাগণ বলেন। এই খবীছ শরীরের খবীছ আত্মার জন্য কোন সু-স্বাগতম নেই। তার জন্য। আকাশের দরজা সমূহ খােলা হবেনা । তাকে অপদস্ত ভাবে পুনরায় পৃথিবীতে পাঠাও। তখন ফেরেশতা তাকে প্রথম আকাশ থেকেই মাটিতে ফেরত পাঠায়। এদিকে আল্লাহ তা’লার পক্ষ থেকে নির্দেশ আসে যে তার নাম সিজ্জিনে (পাপিষ্ঠদের লিষ্ট ভুক্ত কর)। অতঃপর তার রুহ কে দ্বিতীয় বার প্রশ্ন- উত্তরের জন্য তার শরীরে পাঠানাে হয়। কবরে মােনকার নাকীর যখন কাফেরের নিকট আসে তখন সে ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে যায়। মেনকার নাকীর তাকে জিজ্ঞেস করে যেঃ ( ৩) তােমার প্রভু কে? ‘১৭) তােমার নাবী

তােমার দ্বীন কি ছিল? কাফের উত্তরে বলবেঃ আফসােস!আমি কিছুই জানিনা। আর যদি মৃত্যু ব্যক্তি মােনাফেক হয় তাহলে বলবে ? মানুষকে আমি যা কিছু বলতে শুনতাম আমি ও তাই বলতাম কাফের বা মােনাফেকের এই উত্তরের পর জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে, জান্নাতের নে’মত সমূহ তাদের কে এক পলক দেখানাে হয় এবং বলা হয় যে, এ হল ঐ জান্নাত যেখান থেকে আল্লাহ তােমাকে তােমার কুফরী বা মােনাফেকীর কারণে বঞ্চিত করেছে।

অতঃপর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি রাস্তা খুলে দেয়া হয়, যেখান থেকে সে জাহান্নামের শাস্তি পেতে থাকবে, সাথে সাথে জাহান্নামে তার অবস্থান স্থল ও তাকে দেখানাে হবে ।এর পর। আল্লাহর পক্ষ থেকে হুকুম আসবে যে তাকে আগুনের পােশাক পরিয়ে দাও এবং আগুনের বিছানা বিছিয়ে দাও। অতঃপর অন্ধ এবং বােবা ফেরেশতা তার উপর তাকে নেস্ত করা হবে, যে তাকে লােহার হাতুড়ী দিয়ে প্রহাড় করতে থাকবে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেনঃ ঐ হাতুড়ী এত ভারী হবে যে, এর দ্বারা যদি কোন পাড়ে আঘাত করা হয়, তাহলে পাহাড় চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাবে ।এর সাথে আরাে থাকবে বিভিন্ন সাপ বিচ্ছু যা কিয়ামত পর্যন্ত তাকে ছােবল মারতে থাকবে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেনঃকরের সাপ-বিচ্ছু এত বিষাক্ত হবে যে যদি তা যমিনে এক বার নিঃস্বাস ত্যাগ করে, তাহলে যমিনে আর কোন দিন ঘাস উৎপন্ন হবে Na.

এসমস্ত আযাবের সাথে কাফের কে আরাে একটি অতিরিক্ত আযাব দেয়া হবে আর তাহল, কবরের দুই পাশ্বের মাটি তাকে বারবার চাপতে থাকবে। যার ফলে তার এক পার্শ্বের হাডিড অপর পার্শ্বে চলে যাবে।এ সমস্ত আযাব কিয়ামত পর্যন্ত সে ভােগ করতে থাকবে কবরে কাফেরের পাশে এক কুৎসিত চেহারা সম্পন্য দূর্গন্ধময়,ভীতিকর এক ব্যক্তি আসবে,তাকে দেখে কাফের বলবে ? কে তুমি? সে বলবে আমি তােমার আমল তােমাকে তােমার খারাপ পরিনতির কথা জানাতে এসেছি। কাফের ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে বলবেঃ হে আমার প্রভু ! কিয়ামত সংঘটিত করিওনা। এ কাফের মৃত্যুর পর থেকেই শাস্তি ভােগ করতে থাকবে এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত এ সমস্ত শাস্তি সমূহে নিপতিত থাকবে। আল্লাহ তা’লা তার দয়া ও অনুগ্রহে সমস্ত মােসলমানদের কে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আমীন!